সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও এর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতিসংঘে চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব প্রস্তাব দেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত ৭৮/৫৫৮ অনুযায়ী বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো হলো—দ্রুত ও ন্যায্যভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত করা, এসব দেশের জন্য জলবায়ু প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু-উদ্বাস্তুদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সামর্থ্য নিয়েই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে সরকার উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশকে একটি সক্রিয় বদ্বীপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত শত শত নদী সমুদ্রে গিয়ে মিশেছে এবং দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী পানির কাছাকাছি বসবাস করে। ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ উপকূলীয় এলাকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূখণ্ড পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। তাঁর বক্তব্যের এ পরিসংখ্যান সাম্প্রতিক প্রতিবেদিতেও উঠে এসেছে।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের উদ্যোগ, পানি সংরক্ষণে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প আধুনিকায়নে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ চলছে। পাশাপাশি ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ গ্রিন গ্রোথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ শিল্পায়ন ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংকটপূর্ণ প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষায় কাজ করছে সরকার।
বক্তব্যের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষায় জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ জোরদার করাই বৈঠকটির অন্যতম লক্ষ্য।
জি বাংলা ডেস্ক